কম্পিউটার ভাইরাস কী?
-
ক
একটি ক্ষতিকারক জীবাণু
-
খ
একটি ক্ষতিকারক সার্কিট
-
গ
একটি ক্ষতিকারক চৌম্বক ফ্লাক্স
-
ঘ
একটি ক্ষতিকারক প্রোগ্রাম
কম্পিউটার ভাইরাস (Virus) হলো একটি ক্ষতিকারক প্রোগ্রাম বা কোড, যা কম্পিউটারের ফাইল বা সিস্টেমে ঢুকে এবং নিজের কপি তৈরি করে অন্যান্য ফাইল বা প্রোগ্রামে সংক্রমিত করে। ভাইরাস সাধারণত ব্যবহারকারীর অনুমতি ছাড়াই কম্পিউটারে প্রবেশ করে এবং বিভিন্ন ক্ষতি করে, যেমন ডেটা মুছে ফেলা, ফাইল পরিবর্তন করা, বা কম্পিউটার সিস্টেমের পারফরম্যান্স কমিয়ে দেওয়া। কম্পিউটার ভাইরাস একটি বড় সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং এটি থেকে রক্ষা পেতে সঠিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
কম্পিউটার ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য:
১. সংক্রমণ (Infection):
- কম্পিউটার ভাইরাস একটি ফাইল বা প্রোগ্রামে ঢুকে তার ভেতরে নিজের কপি তৈরি করে। এটি অন্য ফাইলগুলোর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং সংক্রমণ ঘটায়।
২. প্রচারণা (Propagation):
- ভাইরাস সংক্রমিত ফাইলের মাধ্যমে এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে ছড়াতে পারে। ইমেইল, ইউএসবি ড্রাইভ, ইন্টারনেট ডাউনলোড, এবং নেটওয়ার্ক শেয়ারিং মাধ্যমে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
৩. ম্যালিসিয়াস কার্যক্রম (Malicious Activities):
- ভাইরাস কম্পিউটারের বিভিন্ন ফাইল ক্ষতিগ্রস্ত করে, সিস্টেমে গোপনে তথ্য চুরি করতে পারে, বা কম্পিউটারের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।
কম্পিউটার ভাইরাসের প্রকারভেদ:
১. ফাইল ইনফেক্টর ভাইরাস (File Infector Virus):
- এই ধরনের ভাইরাস প্রোগ্রাম বা এক্সিকিউটেবল ফাইলের সঙ্গে যুক্ত হয় এবং ফাইলটি চালানোর সময় কার্যকর হয়। এটি .exe বা .com ফাইল সংক্রমিত করে।
২. বুট সেক্টর ভাইরাস (Boot Sector Virus):
- বুট সেক্টর ভাইরাস হার্ড ড্রাইভ বা ফ্লপি ডিস্কের বুট সেক্টরে ঢুকে এবং কম্পিউটার চালু হওয়ার সময় সক্রিয় হয়। এটি সিস্টেম বুট প্রক্রিয়া পরিবর্তন করে এবং সিস্টেমকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
৩. ম্যাক্রো ভাইরাস (Macro Virus):
- ম্যাক্রো ভাইরাস সাধারণত ওয়ার্ড বা এক্সেল ডকুমেন্টের ম্যাক্রোতে যুক্ত থাকে। এটি ডকুমেন্ট খোলার সময় সক্রিয় হয় এবং অন্যান্য ডকুমেন্ট সংক্রমিত করে।
৪. পলিমরফিক ভাইরাস (Polymorphic Virus):
- এই ধরনের ভাইরাস তার কোড প্রতিবার পরিবর্তন করে নতুন ফাইল সংক্রমিত করে, যা অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার দ্বারা শনাক্ত করা কঠিন করে তোলে।
৫. রেসিডেন্ট ভাইরাস (Resident Virus):
- রেসিডেন্ট ভাইরাস কম্পিউটারের RAM-এ অবস্থান করে এবং কম্পিউটারের কার্যক্রম চলাকালে সক্রিয় থাকে। এটি বিভিন্ন প্রোগ্রাম চালু হলে সেগুলোকে সংক্রমিত করে।
কম্পিউটার ভাইরাসের প্রভাব:
১. ফাইল ক্ষতি:
- ভাইরাস সংক্রমিত ফাইলগুলোর ডেটা মুছে ফেলতে বা পরিবর্তন করতে পারে, যা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হারানোর কারণ হতে পারে।
২. সিস্টেম স্লোডাউন:
- ভাইরাস কম্পিউটারের রিসোর্স ব্যবহার করে সিস্টেমকে ধীর করে দিতে পারে, যার ফলে কম্পিউটারের কার্যক্ষমতা কমে যায়।
৩. সিকিউরিটি হুমকি:
- কিছু ভাইরাস গোপনে তথ্য চুরি করতে পারে বা কম্পিউটারে ব্যাকডোর তৈরি করে, যা সাইবার আক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।
৪. সিস্টেম ক্র্যাশ:
- গুরুতর ভাইরাস সংক্রমণ কম্পিউটার সিস্টেমকে পুরোপুরি অকার্যকর করে দিতে পারে বা সিস্টেম ক্র্যাশ ঘটাতে পারে।
কম্পিউটার ভাইরাস থেকে রক্ষার উপায়:
১. অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করুন:
- একটি ভালো অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ইনস্টল করুন এবং নিয়মিত আপডেট করুন। এটি ভাইরাস শনাক্ত এবং মুছে ফেলতে সাহায্য করবে।
২. ইমেইল এবং ডাউনলোড সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করুন:
- সন্দেহজনক ইমেইল বা অজানা সূত্র থেকে ফাইল ডাউনলোড করা এড়িয়ে চলুন। ফাইল ডাউনলোডের আগে তা স্ক্যান করে দেখুন।
৩. সিস্টেম এবং সফটওয়্যার আপডেট রাখুন:
- নিয়মিত অপারেটিং সিস্টেম এবং সফটওয়্যার আপডেট করুন, কারণ আপডেটগুলোতে নিরাপত্তা প্যাচ থাকে যা ভাইরাস প্রতিরোধ করতে সহায়ক।
৪. ব্যাকআপ তৈরি করুন:
- গুরুত্বপূর্ণ ডেটা নিয়মিত ব্যাকআপ করে রাখুন, যাতে ভাইরাস সংক্রমণের কারণে তথ্য হারালে তা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়।
৫. ফায়ারওয়াল এবং নিরাপত্তা প্রোটোকল ব্যবহার করুন:
- ফায়ারওয়াল এবং অন্যান্য সিকিউরিটি প্রোটোকল চালু রাখুন, যাতে অননুমোদিত অ্যাক্সেস প্রতিরোধ করা যায়।
কম্পিউটার ভাইরাস শনাক্ত করার লক্ষণ:
১. ফাইল আচরণে পরিবর্তন:
- ফাইলগুলি খুলতে সমস্যা হলে, ফাইলের আকার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে বা ফাইল নাম পরিবর্তন হলে এটি ভাইরাসের লক্ষণ হতে পারে।
২. সিস্টেম স্লোডাউন:
- কম্পিউটার ধীর হয়ে গেলে বা সিস্টেম প্রোগ্রাম চালানোর সময় অস্বাভাবিক সমস্যা দেখা দিলে ভাইরাস উপস্থিতি থাকতে পারে।
৩. অজানা পপ-আপ মেসেজ:
- অজানা বা অস্বাভাবিক পপ-আপ মেসেজ, অ্যাপ্লিকেশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু বা বন্ধ হওয়া ভাইরাসের সংকেত হতে পারে।
৪. অপ্রত্যাশিত সিস্টেম ক্র্যাশ:
- সিস্টেম হঠাৎ করে ক্র্যাশ হলে বা রিস্টার্ট হলে তা ভাইরাস সংক্রমণের ইঙ্গিত হতে পারে।
সারসংক্ষেপ:
কম্পিউটার ভাইরাস হলো একটি ক্ষতিকারক প্রোগ্রাম, যা কম্পিউটারের ফাইল ও সিস্টেমে ঢুকে এবং সেগুলোকে সংক্রমিত করে। এটি সিস্টেমের পারফরম্যান্স কমিয়ে, ডেটা মুছে ফেলে, এবং সাইবার আক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। সঠিক অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার, নিয়মিত আপডেট, এবং সচেতন ব্যবহার ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে সহায়ক।
Related Question
View All-
ক
Program Virus
-
খ
Worms
-
গ
Trojan Horse
-
ঘ
Boot Virus
কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের জগতে ভিয়েনা, জেরুজালেম, সিএমইএইচ, অ্যানাকুর্নিকোভা ইত্যাদিকে কী নামে অভিহিত করা হয়?
-
ক
কম্পিউটার ভাইরাস
-
খ
কম্পিউটার প্রোগ্রাম
-
গ
সফটওয়্যার ইন্টারফেস
-
ঘ
ওয়েবসাইট ব্রাউজার
-
ক
ফাইল ওপেন করতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগে
-
খ
নতুন প্রোগ্রাম ইনস্টল করতে বেশি সময় লাগে
-
গ
ফাইলের নাম পরিবর্তন হয়ে যাওয়া
-
ঘ
পাসওয়ার্ড পরিবর্তন হয়ে যাওয়া
-
ক
Virus
-
খ
Malware
-
গ
Worm
-
ঘ
Spyware
-
ক
Virus
-
খ
Worm
-
গ
Bug
-
ঘ
Trojan horse
-
ক
Excessive temperature
-
খ
Dust
-
গ
Water
-
ঘ
Virus
-
ঙ
None of these
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!